কারকের ব্যাখ্যা: না পড়লেই মিস!!
কারক অধ্যায়টি সম্পূর্ণ একটি অনুধাবনমূলক বিষয়, অর্থাৎ আপনি মুখস্থ করে কোনো ভাবেই পার পাবেন না। কারক নির্ণয়ে দক্ষ হতে হলে বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদরে সাথে প্রশ্নে চাওয়া পদটির সম্পর্ক বুঝতে হবে। প্রচলিত কিছু নিয়ম আছে সেগুলো দিয়ে আপনি যেগুলো পারবেন, হয়তো সেগুলো পরীক্ষায় তেমন আসে না। সুতরাং অনুধাবনমূলক জ্ঞান বাড়াতে হবে বা কাজে লাগাতে হবে। চলুন নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ একাধিকবার পরীক্ষায় আসা কারক নির্ণয়ের ব্যাখ্যা সংযোজন করা হলো।
১. সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না। এখানে ‘মেঘ’ কোন কারক?
ব্যাখ্যা ও সঠিক উত্তর: প্রশ্নটি প্রথম ২০১৩ সালে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আসে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। প্রশ্নটি বেশ সহজ তবে একটু ছদ্মবেশী। প্রশ্নে যদি বলা হতো ‘মেঘে বৃষ্টি হয়।’ তাহলে সবাই এখানে ‘মেঘ’কে অপাদান কারক দিত।
একটা কথা মনে রাখবেন, বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদ অনুযায়ী কারক নির্ণীত হয়, এবং ক্রিয়াপদটি নেতিবাচকে থাকলেও কারক নির্ণয় করতে হবে অস্তিবাচক (হ্যাঁবাচক) ধরে। কারণ মেঘের সাথে বৃষ্টির সম্পর্কটাই মূখ্য বিষয়। উপরিউক্ত বাক্যস্থিত ‘সাদা’ পদটির সাথে ক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই, অর্থাৎ ‘সাদা’ পদটি সম্বন্ধপদ। তাহলে বাক্যটি দাঁড়াবে—মেঘে বৃষ্টি হয়।
স্থান ও সময়বাচক অপাদান, অধিকরণ নির্ণয়ের সূত্র
- Starting Point (স্থান/ সময়) = অপাদান
- Ending Point (স্থান/ সময়) = অধিকরণ
এবার লক্ষ করুন, মেঘে বৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ‘মেঘ’ বৃষ্টির Starting Point (স্থান) = অপাদান। সুতরাং সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না। এখানে ‘মেঘে’ অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
অনুরূপ নেতিবাচক বাক্যের কারক: সব ঝিনুকে মুক্তা মেলে না। (অপাদান) বাবাকে ভয় পায় না কে? (অপাদান) বাবা বাড়ি নেই। (অধিকরণ) পড়ায় আমার মন বসে না। (অধিকরণ)।
২. ‘নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা’-কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ব্যাখ্যা ও সঠিক উত্তর: প্রশ্নটি ঢাবি (গ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম এসে ছিল, যা পররর্তীতে ৪-৬টি পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। এ প্রশ্নটি একটু কঠিন করে চিন্তা করতে হবে।
বাক্যস্থিত ‘রাস্তা’ অর্থাৎ একটা স্থান এই চিন্তা করে অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর অধিকরণ দাগাবে, কিন্তু তা ভুল হবে। প্রশ্নের ক্রিয়ার দিকে ভালো করে লক্ষ করে দেখুন, 'চলেছে' অর্থাৎ স্থির নেই। ধরে নিলাম লোকটি আকাশের নিচে রাস্তা ব্যবহার করে কোথাও যাচ্ছে। তার মানে, এখানে ‘রাস্তা’ কর্তার কোথাও যাওয়ার একটি মাধ্যম, অর্থাৎ করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
সর্তকতা ও সাবধানতা:
বাক্যটি একটু পরিবর্তন করে আসতে পারে। যেমন: “নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তায় চলেছি একা।"
এই বাক্যে 'রাস্তায়’ পদটিতে '৭মী' বিভক্তি থাকায় অনেকেই 'অধিকরণ' কারক দিয়ে থাকে, কিন্তু এটিও ভুল। কারণ অনেকেই মনে করে থাকে বিভক্তি পরিবর্তন হলে কারকও পরিবর্তন হয়ে যায়, যা ভুল। মনে রাখবেন, বিভক্তির জন্য কখনও কারক পরিবর্তন হয় না; কারক পরিবর্তন হয় ক্রিয়াপদরে কারণে। আবার ‘রাস্তায়’ না বলে ‘রাস্তা দ্বারা’ বললেও করণ কারক হবে। অর্থাৎ কারক একই থাকবে, শুধু বিভক্তি পরিবর্তন হবে।
৩. লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব। কোন কারক?
ব্যাখ্যা ও সঠিক উত্তর: জাতির দ্বারা সে বৈষ্ণব হয়েছে, অর্থাৎ তার বাপ-মা বৈষ্ণব ধর্মের হওয়ায় লোকটি জন্মগতভাবে তার জাতি দ্বারা বৈষ্ণব হয়েছে। তবে পরবর্তীতে কারো না কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র গ্রহণ করে। তবে এ ব্যাপারে বাবা-মা মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে। তাই জাতি এখানে করণ কারক হবে।
৪. “উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ” - এ বাক্যে 'উদ্যম' কোন কারক?
ব্যাখ্যা ও সঠিক উত্তর: প্রশ্নটি রাবি ও খুবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম এসেছিল, যা পররর্তী কয়েকটি পরীক্ষায় আসতে দেখা যায়। উপরিউক্ত বাক্যের অর্থগত বোধ্যগমতা কারণে কারক নির্ণয় করা জটিল মনে হতে পারে। বাক্যস্থিত 'উদ্যম' পদের কারকটি নির্ণয় করতে হলে প্রথমে বাক্যের অর্থ জানতে হবে, তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন; কোন কারক হয়।
'উদ্যম' অর্থ অধ্যবসায়; 'বিহনে' অর্থ বিনা বা ব্যতীত; পুরে অর্থ পূরণ হয়; মনোরথ (মনঃ+রথ) অর্থ ইচ্ছা বা বাসনা। তাহলে বাক্যের অর্থ দাঁড়ায়: "অধ্যবসায় ব্যতীত কারও ইচ্ছা বা বাসনা পূরণ হয়! তাই 'উদ্যম' (অধ্যবসায়) দ্বারা মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। সুতরাং এই বাক্যে 'উদ্যম' হচ্ছে ইচ্ছে বা বাসনা পূরণের সহায়ক বা মাধ্যম অর্থাৎ করণ কারক।
লক্ষণীয়: ২০১৭ সালে ১৪তম বেসরকারি প্রবাষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উপরিউক্ত প্রশ্নের ৪টি অপশনে ‘করণ কারক’ ছিল না; ছিল কর্তৃ/ অধিকরণ/ অপাদান/ কর্ম। সেক্ষেত্রে মনের ইচ্ছা পূরণের উৎস বোঝাতে ‘উদ্যম বিহনে’ অপাদান কারক হবে।
সম্প্রদান কারক
: ক্রিয়ার সঙ্গে “কাকে” যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় এবং ব্যক্তিকে যদি কোনো কিছুর মালিকানা একেবারেই প্রদান করা হয় তাহলে তা সম্প্রদান কার। যেমন : ভিখারীকে ভিক্ষা দাও (কাকে = ভিক্ষারীকে; এবং ভিক্ষা একেবারেই স্বত্ব ত্যাগ করে প্রদান করা হয়, পরবর্তীতে ফেরত নেয়া হয় না)। এরূপ-- গুরুজনে ভক্তি কর।
- শিক্ষককে শ্রদ্ধা কর।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- অন্ধজনে দেহ আলো।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- ‘বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।’
বিশেষ দ্রষ্টব্য : একেবারে স্বত্ব ত্যাগ করা না হলে, সম্প্রদান কারক না হয়ে কর্ম কারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও (কাকে = ধোপাকে); লক্ষণীয় বিষয় হলো ধোপাকে যে কাপড় দেয়া হয় তা ধোপা একেবারেই নিয়ে যায় না, পরিষ্কার করার পর ফেরত দিয়ে যায়। সুতরাং এটি কর্মকারকের উদাহারণ।
Tags
টিপস