অব্যয় পদ: সমুচ্চয়ী অব্যয়, অনন্বয়ী অব্যয়, অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় এবং অনুকার অব্যয় বা ধ্বন্যাত্বক অব্যয়।

 

অব্যয় পদ:

খুঁটিনাটি আলোচনা

যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। অব্যয় পদ চার প্রকার। যথা—
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় এবং
  4. অনুকার অব্যয় বা ধ্বন্যাত্বক অব্যয়।
আমরা প্রথমে ২নং থেকে আলোচনা করব এবং শেষে ১নং আলোচনা করব। এখান থেকে প্রায় সময় পরীক্ষায় প্রশ্ন এসে থাকে কিন্তু আমরা না বুঝার কারণে কিংবা না বুঝে মুখস্থ করার কারণে অনেক সময় ভুল উত্তর দাগানো হয়ে যায়। আশা করি আজকে থেকে অনেকটাই সহজে আয়ত্ত করতে পারবেন।
সমুচ্চয়ী অব্যয়:কটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের বা বাক্যস্থিত একটি পদের সাথে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে। সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন ধরনের। যথা—
সংযোজক অব্যয়দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। যেমন—
  • রহিম  করিম দুই ভাই।
  • উচ্চপদ  সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।
  • তিনি সৎ, তাই সকলে তাঁকে শ্রদ্ধা করে।
নির্ণয়ের সূত্র: দুটি বাক্যের অথবা দুটি পদের সম্পর্ক (+) বুঝাবে। যেমন— উচ্চপদ  সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে উচ্চপদ, সামাজিক মর্যাদা দুটোইকে বুঝাচ্ছে অর্থাৎ ‘ও’ দ্বারা (+) হয়েছে।
বিকল্প, নির্ণয়ের সুত্র: (ও, তাই, আর, অধিকন্তু, সুতরাং, এবং) থাকলেই সংযোজক অব্যয়।
বিয়োজক অব্যয়একাধিক শব্দ, বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন—
  • হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
  • ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
  • আমরা চেষ্টা করেছে বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি।
নির্ণয়ের সূত্র: দুটি বাক্যের অথবা দুটি পদের সম্পর্ক (—) বুঝাবে। যেমন— হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। এখানে হাসেম ও কাসেম দুইজন আছে কিন্তু একজনকে বুঝাচ্ছে অর্থাৎ ‘কিংবা’ দ্বারা (—) হয়েছে।
অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়: সাধারণত কিংবা, বা, কিন্তু, অথবা, নতুবা, নতুবা, না হয়, নয়তো।
সংকোচক অব্যয়দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সংশোধন বা বিরোধ নির্দেশ করে। যেমন—
  • তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
  • এত মেঘ হল, তবু বৃষ্টি হল না।
  • লোকটি ধনী কিন্তু কৃপণ।
অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়: সাধারণত অথচ, কিন্তু, বরং, তবু, তথাপি।
নির্নয়ের সূত্র: প্রথম বাক্য দ্বিতীয় বাক্যের দোষ বুঝাবে। যেমন— তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে তিনি বিদ্বান, তাই সৎ না হওয়াটা দোষের। এভাবে উপরের সকল বাক্য নির্ণয় করা যাবে।

২। অনন্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন—
  • মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ। (উচ্ছ্বাস প্রকাশে)
  • ছি ছি, তুমি এত নীচ! (ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে)
  • উঃ! বড্ড লেগেছে। (যন্ত্রণা প্রকা)
এরূপ অধিক বাক্য আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এগুলি না বুঝে মুখস্থ করা শুরু করে দেয়। এগুলি মুখস্থ না করে খুব সহজে নির্ণয় করা যায়। নিম্নে সূত্র দেওয়া হলো—
নির্ণয়ের সূত্রযে অব্যয়টি দ্বারা বাক্যের অর্থ গভীরভাবে প্রকাশ পাবে সেটি অনন্বয়ী অব্যয় হবে। ধরুন একটি বাক্য— “কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।”—এই বাক্যটি বললেও বাক্যের নিজস্ব অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে কিন্ত যদি বলি— ‘মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ। —এবার খেয়াল করুন পূর্বের বাক্যের অর্থের চেয়ে এই বাক্যের অর্থ গভীরভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। তাই এখানে ‘মরি মরি’ হবে অনন্বয়ী হবে। এরূপ— পায়ে বড্ড লেগেছে। কিন্তু “উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে। এবার বাক্যের অর্থ গভীরভাবে প্রকাশ করছে সুতরাং এই বাক্যের ‘উঃ’ অনন্বয়ী অব্যয়। এভাবে সকল বাক্যেই হবে।
৩। অনুসর্গ অব্যয়: যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। যেমন— ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়) অনুসর্গ অব্যয়ের অপর নাম পদান্বয়ী অব্যয়।
নির্ণয়ের সূত্রবাক্যে ‘অনুসর্গ’ থাকলেই তা অনুসর্গ অব্যয় হবে। যেমন— প্রাণের অপেক্ষা প্রিয় আর কী আছে? এখানে অনুসর্গ হচ্ছে ‘অপেক্ষা’ এবং বাক্যে আছে সুতরাং এটি অনুসর্গ অব্যয়।
৪। অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্বক অব্যয় বলে। যেমন— বৃষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর
নির্ণয়ের সূত্র: বাক্যে ‘ধ্বনাত্মক দ্বিরুক্ত’ থাকলে তা-ই অনুকার অব্যয়। যেমন— বৃষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর। এখানে ‘টাপুর-টুপুর’ ধ্বনাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ এবং বাক্যে আছে সুতরাং এটি অনুকার বা ধ্বনাত্মক অব্যয় হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন