চাচা কাহিনী
সৈয়দ মুজতবা আলী
সৈয়দ মুজতবা আলী
বুক রিভিউ - চাচা কাহিনী
ছোট ছোট কিছু ঘটনা আর হাস্যরস, কিন্তু এদের মধ্য দিয়েই বলা হয়ে গেছে কতকিছু - সংস্কৃতির সংঘাত, জাতিভেদ, ধর্ম, বিশ্বাস, রাজনীতি, বন্ধুত্ব, ভালবাসা, ছলনা - সবকিছু।
বইটিতে রয়েছে এগারটি ছোট গল্প। যার প্রথম পাঁচটি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাচা, চাচার মুখে চাচার জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। ম্যুনিখ (মিউনিখ) এর 'হিন্দুস্তান হৌস' (হিন্দুস্তান হাউস) এ নিয়মিত আড্ডা বসায় গোটা ছয় বাঙালী। এদের মধ্যমণি হলেন চাচা। একেক দিন একেক কথা প্রসঙ্গে তিনি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা বর্ননা করেন। পরের ছয়টি গল্প লেখকের নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা।
গল্পগুলোর এই দুইটি ভাগের মধ্যে আরও কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। চাচার গল্পগুলো সবকটাই জার্মানিতে ঘটা। এর প্রত্যেকটিতেই জার্মান সংস্কৃতি, বিভিন্ন রীতিনীতি উঠে এসেছে। তৎকালীন জার্মানির সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে। পরের গল্পগুলো ঘটেছে কোনটা ইন্ডিয়া, কোনটা ফ্রান্স বা জার্মানিতে। তবে ফ্রান্স তথা প্যারিস আর ইন্ডিয়ান কালচার এখানে প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। প্রথম ধাপের গল্পগুলো জাতি, ধর্ম, রাজনীতি এসব কেন্দ্র করে আবর্তিত। কিন্তু পরের ধাপের গল্পগুলোতে একজন মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো মুখ্য। এই হিসেবে গল্পগুলো জীবনের অনেক কাছাকাছি বলে অনুভূত হয়। তবে দুই ধাপেই হাস্যরসের যোগান ছিল প্রচুর।
গল্পগুলোর এই দুইটি ভাগের মধ্যে আরও কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। চাচার গল্পগুলো সবকটাই জার্মানিতে ঘটা। এর প্রত্যেকটিতেই জার্মান সংস্কৃতি, বিভিন্ন রীতিনীতি উঠে এসেছে। তৎকালীন জার্মানির সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে। পরের গল্পগুলো ঘটেছে কোনটা ইন্ডিয়া, কোনটা ফ্রান্স বা জার্মানিতে। তবে ফ্রান্স তথা প্যারিস আর ইন্ডিয়ান কালচার এখানে প্রাধান্য পেয়েছে বেশি। প্রথম ধাপের গল্পগুলো জাতি, ধর্ম, রাজনীতি এসব কেন্দ্র করে আবর্তিত। কিন্তু পরের ধাপের গল্পগুলোতে একজন মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো মুখ্য। এই হিসেবে গল্পগুলো জীবনের অনেক কাছাকাছি বলে অনুভূত হয়। তবে দুই ধাপেই হাস্যরসের যোগান ছিল প্রচুর।
প্রতিটি গল্পই ছিল অসাধারণ। বর্ননা শৈলী অতুলনীয়। প্রতিটি গল্পেরই অন্তর্নিহিত একটি ভাব আছে। আর খুব অল্প কথায় লেখক প্রতিটি ভাবের মূলে নিয়ে গিয়েছেন আমাকে। লেখক বলেছেন কম কিন্তু ভাবিয়েছেন বেশি, আর এসবই করেছেন হাস্যরসের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে। অসাধারণ 'সেন্স অব হিউমার' এর প্রকাশ পায় প্রতিটি লেখায়। অত্যন্ত লঘুচালে তিনি বলে গেছেন জীবনের কঠিন কঠিন সব কথা। গল্পগুলো এমনভাবে লেখা যেন সাধারণ হাসি তামাশা চলছে, অতি সাধারণ কিছু ঘটছে যা শুধুই আনন্দের খোরাক। কিন্তু গল্পটা শেষ হলে বুঝাও যায় না কিসে যেন আঘাত করল। সেই আঘাতেই খুলেছে ভাবনার দ্বার। এই হাসি রসের মাঝেও গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য হয়েছি প্রতিবার।
এটি এমন একটি বই যাতে খারাপ লাগার মত কিছুই পাইনি আমি। আমার কাছে সেইসব লেখা বেশি ভালো লাগে যেখানে লেখক পাঠকের হয়ে চিন্তা না করে দিয়ে বরং পাঠকের চিন্তার দ্বার উন্মোচিত করে দেয়। এটি ঠিক তেমনই একটি বই। বইয়ের গল্পগুলো বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রতিটি গল্প নিয়ে এক একটা বই লেখা যাবে। অথচ তিনি কি সুন্দরভাবেই না এত সল্প পরিসরের মাঝেই তা ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার মতে এখানেই তার সার্থকতা। শেষ হওয়ার পরও বার বার পড়তে মনে চাচ্ছে প্রতিটি গল্প।
Tags
বুক রিভিউ
